নীল-কালো (০)

কৈফিয়ৎ

স্কুলবেলার গল্প প্রায়ই করে সবাই, আমিও করি। এবং সবাই বলে স্কুলের সময়টা জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়। কিন্তু স্কুলজীবন সুন্দর ছাড়াও আরেকটা জিনিস, সেটার কথা কেউ বলে না।

মানুষের স্কুললাইফে যত ভায়োলেন্স আর নিষ্ঠুরতার গল্প চাপা থাকে, স্মৃতিচারণের সময় আমরা সেগুলোকে খুব একটা ভেসে উঠতে দিই না। চেপে যাই, এবং চেপে রাখি।

Continue reading

ইংরেজী/বাংলা (৪)

বাংলার ছাত্রছাত্রীদের আরেকটা বড় দুর্ভাগ্য আছে, সেটা হল – তারা জন্মেছে বাঙালীর ঘরে।

রবীন্দ্রনাথ এককথায় বলেছিলেন, “শীর্ণ শান্ত সাধু তব পুত্রদের ধরে / দাও সবে গৃহছাড়া লক্ষ্মীছাড়া ক’রে। / সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী, / রেখেছ বাঙালী করে, মানুষ কর নি।” – এই যে মানসিক শীর্ণতার অভিশাপ, এই অভিশাপের দাগ আজ পর্যন্ত বাঙালীর কপাল থেকে ঘোচেনি।

Continue reading

ইংরেজী/বাংলা (৩)

আমাদের দেশে ইংরেজী শেখানো হয় গ্রামার বই পড়িয়ে। যে ভাষা গ্রামার বই পড়িয়ে শেখানো হয়, মানুষ সেই ভাষায় কোনোদিন সাবলীল হতে পারে না।

একদিন একজন স্টাডিহলে হ্যারি পটার পড়ছিল, দেবাশিসদা ধরেছিলেন। ধরে যখন দেখেন যে ছেলে পড়ছে হ্যারি পটার, তখন হেবি খুশী হয়ে স্টাডিহলে প্রায় ঘোষণার সুরে বললেন, হ্যারি পটার? যাও পড়ো গিয়ে! অ্যায় শোনো, হ্যারি পটার খুব ভালো বই, সবাই পড়বে। পড়লে ভালো ইংরেজী শিখতে পারবে।

Continue reading

ইংরেজী/বাংলা (২)

বাংলা মিডিয়ামে শিফ্‌ট করার পরে একটা মজা হল, সেটা ঠিক প্রাসঙ্গিক না হলেও গল্প হিসেবে কৌতুককর। আমি নার্সারী থেকে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে আসছি, হঠাৎ ক্লাস ফোরে বিদ্যাপীঠে ঢুকে বাংলা মিডিয়ামে এসে পড়েছিলাম। ফলে, গণ্ডগোল হত। আমি ফোরের ফাস্ট পিরিওডিক্যাল পরীক্ষায় অঙ্কে পঞ্চাশে পঞ্চাশ পাইনি একমাত্র একটা ভুলের জন্য — ইংরেজীর আট আর বাংলার চার গুলিয়ে ফেলেছিলাম। সেসব ট্র্যাজেডির কথা থাক। অন্য যে গোলমালটা হয়েছিল, আমি ডন বস্কো থেকে সদ্য আসার দরুণ ইংলিশে বাকি সেকশনমেটদের তুলনায় খানিকটা বেশী স্বচ্ছন্দ ছিলাম। বাকিরা সবাই তুখোড় তুখোড় ছাত্র, ভালো স্টুডেন্ট না হলে পুরুলিয়া বিদ্যাপীঠে ঢোকা যেত না (মানে, *হ্যাঁচ্চো* ডোনেশন ছাড়া *হ্যাঁচ্চো*) কিন্তু ইংরেজীর ব্যাপারে প্রায় সবাইই একটু নার্ভাস। আমি নই। ফলে পরীক্ষায় আমি হায়েস্ট পেলাম, আর রটে গেল যে আমি ইংরেজীতে হেবি ভালো।

Continue reading

ইংরেজী/বাংলা (১)

বাংলা মিডিয়াম আর ইংলিশ মিডিয়ামের দ্বন্দ্বটা পুরোনো। এই নাটক এখন চলছে, আমি যখন স্কুলে ছিলাম তখন চলত, আমার স্কুলে ঢোকার বহু আগেও নিশ্চয়ই চলেছিল, দাদারা চাইলে ঢের গল্প শোনাতে পারবেন।

দ্বন্দ্ব কথাটা ইচ্ছে করেই ব্যবহার করলাম। স্কুলে বাংলা ক্লাসেই শেখা, দ্বন্দ্ব শব্দের মানে যেমন বিরোধ হয়, তেমন মিলমিশও হয়। সেই ঈশ্বরী পাটনির গল্পে লাইন ছিল, “কেবল আমার সঙ্গে দ্বন্দ্ব অহর্নিশ।” – আমাদের দেশে বাংলা আর ইংরেজীর সম্পর্কটা দুই অর্থেই দ্বন্দ্বের।

Continue reading

ঘরের ভেতর একলা বসে
কতই কথা ভাবি,
পেরিয়ে আসা বিকেল বেলা,
অশথপাতায় রোদের খেলা,
ন্যাপথালিনের গন্ধ মাখা
পুরোনো পাঞ্জাবী।

ঘড়ির কাঁটা দুপুর গোনে,
একফালি রোদ ঘরের কোণে,
ক্যালেন্ডারের গা ঘেঁষে ওই মরচে-ধরা চাবি।
ঘরের ভেতর এমনি বসে
নানান কথা ভাবি।

জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে
হলুদ নিমের পাতা,
আলমারীতে চুপটি করে
বইরা ঘুমায় সারে সারে
কাগজমোড়া বাক্সে রাখা
স্কুলবেলাকার খাতা।

শান্ত গিটার চুপ করে রয়
ছায়ার মত দীর্ঘ সময়
পুরুলিয়ার ট্রাঙ্কে জমা দু’মুঠো কলকাতা।
কে জানে কার জন্যে রাখা
স্কুলবেলাকার খাতা।

তার পর

সময় ভালো না। সময়ের নাড়ী অনেকদিনই ক্ষীণ হয়ে এসেছিল, এতদিনে আমাদের ভালোরকম নজরে পড়ছে। কে যেন বলেছিল, পাশের বাড়িতে কেউ না মরা পর্যন্ত আমাদের হুঁশ ফেরে না? – এইবারে পাশের বাড়িতে লোক মরেছে।

আমি তো নষ্ট মানুষ, আমার আর কী, দিনরাত ফুর্তিতে আছি। কিন্তু অন্য মানুষকে তো এই কালবেলায় সেই ফুর্তি দেওয়া যায় না। এরকম সময়ে ঋভুর মতো কলমের প্রয়োজন, এক নয় – একাধিক। আমি তাই ভাবলাম, বেচারি একা কত লিখবে, আমিও বরং ওর অনুকরণ করে একটা পোস্ট দিই।

Continue reading

“Depression and I”

This is because of a young friend.
She made a post on her blog recently, talking about her experience with depression. Reading her post reminded me of something I had written quite a while back – August 15, 2017, to be exact. My write-up was a translation of a raw account written in Bangla by a man who had battled depression for many, many days. I had translated it in the hopes of having his story reach a wider audience. I reproduce that translation here below. Anyone who is interested in the Bangla original can find it here.  

Continue reading