নীল-কালো (৮)

অষ্টম অংশ

“নীল”

“There is no document of civilization that is not also a document of barbarism.”

সিরিজ শুরু করার সময় লিখেছিলাম, ‘স্কুললাইফে যত ভায়োলেন্স আর নিষ্ঠুরতার গল্প চাপা থাকে, স্মৃতিচারণের সময় আমরা সেগুলোকে খুব একটা ভেসে উঠতে দিই না।’

Continue reading

নীল-কালো (৭)

সপ্তম অংশ

“অমানুষ”

“There must have been a moment, at the beginning, where we could have said — no. But somehow we missed it.”

ছোটো থেকে পড়েছি, মানুষ গোষ্ঠীবদ্ধ জীব। কিন্তু এর মধ্যে একটা অদ্ভুত মজা আছে যেটা ছোটবেলায় চোখ এড়িয়ে যেত। গোষ্ঠীর কনসেপ্টটা একাধারে ইনক্লুসিভ এবং এক্সক্লুসিভ। একদিকে যেমন কয়েকজন মানুষ দল বেঁধে একটা গোষ্ঠী তৈরী করে, অন্যদিকে তাদের মধ্যে অন্য যেকোনো কাউকে দূরে ঠেলে রাখার একটা জোটবদ্ধ মানসিকতা সমানভাবে কাজ করে। নিজের দলের বাইরেকার যেকোনো এলিমেন্টকে যথাসম্ভব এলিয়েনেট করা মানুষের মজ্জাগত স্বভাব। এটা আছে বলেই আমাদের হোমো সেপিয়েন্স প্রজাতি জীবজগতে এত কম সময়ের মধ্যে এতখানি সাফল্য পেয়েছে। এই স্বভাবেরই আলাদা আলাদা অভিব্যক্তি আমাদের বর্ণবৈষম্য, জাতিবিদ্বেষ, জাতীয়তাবাদ, জিঙ্গোইজম।

Continue reading

নীল-কালো (৬)

ষষ্ঠ অংশ

“জাত-বজ্জাত”

“…it is not usual, I say, for such privileged and wealthy beings to waste their time in speculations on the state of society, in philosophical reveries, intended at best to console those whom fate has disinherited from the goods of this world.”

কালচারাল ক্লাসিজমের কথা বলব বলছিলাম।

এই যে এখন দেশে সবকিছুতে হিন্দুকরণ আর হিন্দীকরণের চল হয়েছে, হিন্দী বলয়ের চালচলন, রীতিনীতি, খাওয়াদাওয়া পোশাকআষাক ভাষাভাষী সবকিছু আমরা আস্তে আস্তে নিজের বলে মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছি, এর কারণ কী? সবচেয়ে বড় কারণটা কিন্তু রাজনৈতিক। দেশের ভাষা আসলে রাজধানীর ভাষা। শুধু ভারত বলে নয়, সবজায়গাতেই তাই, সব যুগেই। নেপোলিয়নও সম্রাট হয়ে ফ্রান্সে একই নিয়ম করেছিলেন, চীনের সম্রাটও দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য সারা সাম্রাজ্য জুড়ে একই আইন চালু করেছিলেন। ব্যাপারটা চিরকালই এফিশিয়েন্সি আর ইকনমির প্রশ্ন। জাতিগত দোষ নয়, এটা আমাদের প্রজাতিগত বৈশিষ্ট্য। প্রকৃতি সবসময় চায় বৈচিত্র বাড়াতে; মানুষ সবসময় চায় বৈচিত্র কমাতে।

Continue reading

নীল-কালো (৫)

পঞ্চম অংশ

“ঠাট্টা”

“- (He) was definitely a different kind of duck. He wore the same tattered jacket, be it hot or cold, always hugged the wall as he walked down a hallway. He was off.

– ‘Off isn’t tolerated in high school.

– Well, certainly not in the 30 years I’ve been doing this job.”

ক্লাস নাইনের ইংরেজী বইয়ে আমাদের একটা গল্প পাঠ্য ছিল, রাস্কিন বন্ডের লেখা ‘মোস্ট বিউটিফুল”। সুরেশ বলে একটা ছেলের কথা ছিল সেই গল্পে। কুৎসিত চেহারা আর মানসিক প্রতিবন্ধকতা থাকার দরুণ তাকে বাকি ছেলেরা নিষ্ঠুরভাবে মারত আর খ্যাপাত। গল্পটা অনেকের মনে আছে হয়তো।

Continue reading

নীল-কালো (৪)

চতুর্থ অংশ

“বিশ্বাসঘাতক”

“It is silly to go on pretending that under the skin we are brothers. The truth is more likely that under the skin we are all cannibals, assassins, traitors, liars and hypocrites.”

এই অংশে শুধু একটা মাত্র গল্প বলব। খুব ছোট গল্প। মনে থেকে গেছে। ইচ্ছে ছিল এই গল্পটা লেখার সময় নাম-ধাম বদলাব না। অন্য যে সব ঘটনা বলেছি, তাতে চরিত্রদের নাম পাল্টে দিয়েছি যাতে এখন, আজ আর কারো গায়ে আঁচ না লাগে। এই গল্পটা মনে হচ্ছিল খোলাখুলি লিখি। লিখলাম না।

Continue reading

নীল-কালো (৩)

তৃতীয় অংশ

“রেপ”

“Everything in the world is about sex except sex. Sex is about power.”

চুরির গল্পে একজন লিখেছে, এগুলোর সাথে আমাদের বৃহত্তর সমাজের খুব ভালো মিল আছে। – আসলে, আমার স্পষ্ট মনে আছে, আমরা কেউ কেউ বিদ্যাপীঠে থাকতেই বলাবলি করতাম, বিদ্যাপীঠ আসলে পুরো সমাজের একটা সংক্ষিপ্ত, বনসাই ভার্সান। কলেজী ভাষায় একে বলে মাইক্রোকজম। বাইরের দুনিয়ায় যা বৃহৎ আকারে দেখা যায়, তারই ছোট্ট রূপ, ক্যাম্পাসের চার দেওয়ালের ভেতর। দুনিয়ায় যেমন রাজা উজির কোটাল সওদাগর রাজপুত্র রাজকন্যা চোর ডাকাত পুরোহিত বিদূষক সবরকম আছে, তেমন আমাদের ক্যাম্পাসের ভেতরকার ‘বিদ্যাপীঠ-পরিবার’-এও এই সবরকমই আছে।

Continue reading

নীল-কালো (২)

দ্বিতীয় অংশ

“চোর-পুলিশ”

“কে একজন বলিল – পাকা চোর –

টেঁপি বলিল – বাগানের আমগুলো তলায় পড়বার জো নেই কাকীমা –

শেষোক্ত কথাতেই বোধ হয় সেজ ঠাক্‌রুণের কোন ব্যথায় ঘা লাগিল। তিনি হঠাৎ বাজখাঁই রকমের আওয়াজ ছাড়িয়ে বলিয়া উঠিলেন – তবে রে পাজি, নচ্ছার চোরের ঝাড়, তুমি জিনিস দেবে না? দেখি তুমি দেও কি না দেও! কথা শেষ না করিয়াই তিনি দুর্গার উপর ঝাঁপাইয়া পড়িয়া তাহার মাথাটা লইয়া সজোরে দেওয়ালে ঠুকিতে লাগিলেন।”

ইস্কুলে চুরি, – পাশ-ফেল, র‍্যাগিং বা লাভলেটারের মতই প্যানডেমিক ঘটনা। চুরি অনেকরকম হত। ছেলেরা স্কুলের জিনিস চুরি করত, – যেমন গাছ থেকে আম বা পেয়ারা বা বাতাবিলেবু চুরি, এমনকী লিচু চুরি। পরে কলেজে থাকতে আমরা সফলভাবে একাধিকবার কাঁঠাল চুরি করেছি। এইসব চুরির গল্প এখানে করব না। এখানে অন্য চুরির গল্প হবে, যাকে রোমান্টিসাইজ করা একটু কঠিন।

Continue reading

নীল-কালো (১)

প্রথম অংশ

“মার”

“The rebel took the bank job because she sees her rebellion is fruitless. The player stays faithful to his wife because the consequence of infidelity is much greater now. But their instincts – their instincts never change.”

রাতে বেডে শুয়ে শুয়ে শুনছি, ভৈরব মহারাজের রুমের দিক থেকে প্রচণ্ড মার আর চীৎকারের আওয়াজ আসছে। শুধু আমরা না, আমাদের ধাম না, সারা সদন শুনছে। নিয়ম থার্ড বেলের পরে বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়া, কিন্তু সেদিন কেউই ঘুমোচ্ছিল না। ওই শব্দ শিবানন্দ সদনের এমাথা-ওমাথা শোনা যাওয়ার কথা। তাছাড়া ব্যাপারটা সবাই জানত।

Continue reading